Sunday, April 8, 2018

ফ্রিল্যান্সিং শুরু করার আগে নিজেকে দক্ষ করে গড়ে তুলুন

ফ্রিল্যান্সিং শুরু করার আগে নিজেকে দক্ষ করে গড়ে তুলতে হলে প্রথমে গুগল এবং ইউটিউব কে বন্ধু হিসেবে নিন। গুগল এবং ইউটিউব থেকে প্রাথমিক শিক্ষা নিয়ে একটি কোর্স করুন কোনো ভালো প্রশিক্ষন কেন্দ্র থেকে।

কোর্স করার অর্থ হলো অল্প সময়ে কাজ করার মত দক্ষ হতে পারবেন কিন্তু সব সময় যে এটা কার্যকর হবে তা না, বেশির ভাগ সময় কার্যকর হয়। কোন বিষয়ের উপর দক্ষ হবেন এটা একটা ব্যাপার তবে আমি বলব, যে বিষয়ে আপনি আগ্রহী হন সে বিষয় নিয়ে ভবিষ্যৎ গড়ে তুলতে চেষ্টা করুন তাহলে খুব সহজে সফলতা পাবেন ইনশাআল্লাহ এবং আগ্রহটা সব ক্ষেত্রে খুবই জরুরি। আগ্রহ ছাড়া সফলতা পাওয়া অনেক কঠিন ব্যাপার।




কেন আগে নিজেকে গড়ে তুলতে হবে? 

কারন প্রথম দিকে কাজ পাওয়া টা অনেক কঠিন ব্যাপার তারপরও বলছি রিজিকের মালিক আল্লাহ্‌ ভাগ্য ভালো থাকলে দ্রুতও পেতে পারেন তবে আপনিতো আর জানেননা আপনার ভাগ্যে কি আছে। স্বাভাবিক দৃষ্টিকোণ থেকে বলছি সব কিছুর একটা পদ্ধতি আছে। ধরুন, আপনি দক্ষ না, আপনি কাজ পেলেন কিন্তু কাজটি করতে পারলেন না তখন আপনি ক্লায়েন্ট হারালেন, খারাপ ফিডব্যাকও পেলেন এবং আমাদের দেশের ভাবমূর্তি ও নষ্ট হলো। তার মানে নতুন অবস্থায় কাজ পাওয়া এমনিতেই অনেক কঠিন ব্যাপার তারপর আবার খারাপ ফিডব্যাক আসলে আরও অনেক কঠিন হয়ে যায় এবং ক্লায়েন্ট আমাদের দেশ থেকে ভবিষ্যতে কাউকে হায়ার নাও করতে চাইতে পারে। আপনি দক্ষ হলে কাজটাও করতে পারলেন আবার ভালো ফিডব্যাকও পেলেন ক্লায়েন্ট এর সাথে ভালো সম্পর্কও তৈরি হলো। আপনাকে ভালো লাগলে সব সময়ের জন্য কাজও দিতে পারে। আপনি এখন চিন্তা করুন কোনটা ভালো দক্ষ হয়ে আসা নাকি দক্ষ না হয়ে আসা। দক্ষ হয়ে ফ্রিল্যান্সিং শুরু করলে আপনার পেছনে ফিরে তাকানোর সম্ভাবনা অনেক কম থাকবে। আবার দেশের ভাবমূর্তিও নষ্ট হবে না।

আপনি যদি মনে করেন একটা খারাপ ফিডব্যাক পেলে কি হয়েছে তাতে, আর একটা অ্যাকাউন্ট খুলে কাজ শুরু করব এটা চিন্তা করে থাকলে আমি মনে করি ভুল চিন্তা করছেন কারন আপনি আপনার প্রথম অ্যাকাউন্ট এ যে শ্রম এবং সময় দিয়েছেন সেটা কখনই ফেরত আনতে পারবেন না এবং খারাপ ফিডব্যাকও ডিলিট করতে পারবেন না। ফ্রিল্যান্সিং করতে চাইলে দীর্ঘমেয়াদি কাজ করার চিন্তা করে শুরু করুন।

কিছু ছোট বিষয় মাথায় রাখবেন এগুলো অনেক গুরুত্বপূর্ণঃ 

১। প্রোজেক্ট এর তথ্য দেখে অ্যাপ্লাই করুন। প্রোজেক্ট এর তথ্য ভালভাবে পড়ুন। যদি দেখেন আপনি কাজটি করতে পারবেন ক্লায়েন্ট এর বাজেট এবং প্রোজেক্ট এর শেষ তারিখ এর মধ্যে তাহলে অ্যাপ্লাই করুন এবং কাজ পেলে কাজ করুন। Cover letter টি অনেক গুরুত্বপূর্ণ। ভালোভাবে Cover letter লিখতে হবে।

আর একটা ব্যাপার মনে রাখবেন যদি দেখেন কাজটি আপনি করতে পারেন ৯০% কিন্তু বাকি ১০% পারবেন না তাহলে আশেপাশে দেখেন কেউ পারে কিনা। যদি দেখেন ১০% করা সম্ভব না তাহলে কাজ নেবেন না। অনেক সময় রিস্ক নিয়ে কাজ করলে গুগল বা ইউটিউব ঘেটে সম্পন্ন করা যায় কিন্তু অনেক রিস্কি। আবার কাজের অভিজ্ঞতা বেশি হলে বোঝা যায় বাকি ১০% করা যাবে কিনা। তবে সবকিছু জেনে বুঝে চিন্তা করতে সময় খুব একটা বেশি পাবেন না তারমানে আপনাকে খুব কম সময়ের মধ্যে সিদ্ধান্ত নিতে হবে।

২। যোগাযোগ এর ক্ষেত্রে অনেক আন্তরিক হতে হবে। যত দ্রুত সম্ভব ক্লায়েন্ট এর মেসেজ এর উত্তর দিতে হবে। মনে রাখবেন উন্নত দেশের মানুষের সময়ের অনেক মূল্য। তারা যদি দেখে আপনি সময় মত উত্তর দিচ্ছেন না তাহলে তারা অন্য কাউকে হায়ার করে ফেলবে। তারমানে আপনাকে সব সময় প্রস্তুতি নিয়ে থাকতে হবে কখন ক্লায়েন্ট মেসেজ দেয়। এটা কি অনেক কঠিন ব্যাপার? কখনই না। একটা স্মার্ট ফোন কিনে নিন এবং প্রত্যেকটা মার্কেট এর অ্যাপ ইন্সটল করে নিন। ইনস্ট্যান্ট নোটিফিকেশন পাবেন যদি কোন মেসেজ আসে।

৩। বিনয়ি এবং সৎ হতে হবে। প্রতিশ্রুতি ঠিক রাখতে হবে। সময় মত উত্তর দিতে হবে। একটা ব্যাপার মনে রাখবেন আপনি কারো থেকে টাকা ধার চাইলে কেউ ধার দিতে চাইবে না যদি আপনি বিশ্বাসী না হন যদিও আপনি তাদের সামনেই থাকবেন। তারা হতে পারে আপনার বাবা অথবা ভাই অথবা আত্মীয় অথবা প্রতিবেশী অথবা বন্ধু-বান্ধব কিন্তু একটা ক্লায়েন্ট আপনাকে চেনে না জানে না কখনো দেখে নায় শুধু একটা প্রোফাইল দেখে আপনাকে কাজ দেবে অনেক সময় অগ্রিম টাকা দেবে তাহলে বলেন তাদের সাথে কেমন আচরন করা উচিৎ? তাহলে অবশ্যই সৎ হতে হবে, বিনয়ী হতে হবে, বিশ্বাসী হতে হবে, প্রতিশ্রুতি ঠিক রাখতে হবে সব কথার মূল কথা পেশাদার হতে হবে। চেষ্টা করবেন প্রয়োজন ছাড়া অপ্রয়োজনে কথা না বলা কারন ওনাদের এত সময় নাই অপ্রয়োজনে আপনার সাথে কথা বলার তবে কিছু ক্লায়েন্ট পছন্দ করতে পারে তবে সেটা অনেক কম।


ফ্রিল্যান্সিং শুরু করার উত্তম সময়ঃ 


ইউনিভার্সিটি অথবা চাকরির পাশাপাশি তবে অবশ্যই দক্ষ হয়ে। প্রথম দিকে পেট চালানোর চিন্তা না করাই ভালো।

যদি উপার্জন করা খুব দরকার হয় তাহলে ফ্রিল্যান্সিং কিছুদিনের জন্য ত্যাগ করাই ভালো সেক্ষেত্রে চাকরি বা শিক্ষাদান দেয়াই ভালো।

কখন অ্যাপ্লাই করার সময়ঃ

সব সময় অ্যাপ্লাই করতে পারবেন কিন্তু একটা নির্দিষ্ট সময়ে অ্যাপ্লাই করলে কাজ পাবার সম্ভাবনা বেশি থাকে সেটা সন্ধ্যা ৭.০০ থেকে ভোর ৫.০০ টা। কারন বেশির ভাগ ক্লায়েন্ট আমেরিকান। তাদের সময় এবং আমাদের সময় এর গড় দূরত্ব ১২.০০ ঘণ্টা। যখন আমেরিকাই অফিস শুরু হয় তখন আমাদের দেশে রাত ৯.০০ টা। আবার ভোর ৫.০০ থেকে সন্ধ্যা ৭.০০ এর মধ্যে ও অনেক সময় কাজ আসে।

করনীয়ঃ-

অ্যাপ্লাই করতে ক্লান্ত হয়ে গেছেন কাজ পাচ্ছেন না এ জন্য ধৈর্য হারা হওয়া যাবে না। ইন্টারনেট এর স্পীড ভালো থাকতে হবে কম্পিউটার এবং মোবাইল এ। সব সময় মার্কেট এর ওয়েবসাইট গুলো খুলে বসে থাকুন এবং দেখুন আপনার স্কিল সংশ্লিষ্ট কোন কাজ আসে কি না। অনেক ধৈর্য ধরতে হবে আমি বার বলছি। যতদিন সফলতা না আসে ততদিন সব(আড্ডা) ছেড়ে দিন। যেখানেই যান স্মার্ট ফোন ব্যাবহার করুন দেখতে থাকুন কোন আপনার স্কিল সংশ্লিষ্ট কাজ আসে কিনা অথবা কোন ক্লায়েন্ট মেসেজ দিল কিনা, কোন ইমেইল আসলো কিনা। এমনকি যখন ওয়াশরুম এ যাবেন তখন ও ফোনটি সাথে নিয়ে যান। সব সময় অনলাইনে থাকতে হবে কোন ফাকি দেয়া যাবে না।

মনে রাখবেন যত বেশি সময় দিবেন তত দ্রুত সফল হওয়ার সম্ভাবনা বেশি এবং উপার্জন ও তত বেশি করতে পারবেন।

ভালো মার্কেট গুলো হলো https://www.freelancer.com, https://www.upwork.com, https://www.fiverr.com আরও অনেক আছে।

সব দেশেই ভাল মন্দ মানুষ বাস করে তবে আমি কিছু ভাল দেশের নাম দিচ্ছি তবে আরও ভাল দেশ থাকতে পারেঃ

আমেরিকা, কানাডা, ইংল্যান্ড, অস্ট্রেলিয়া, জার্মান, সুইডেন, ডেনমার্ক, সুইজারল্যান্ড, নেদারল্যান্ড, ইতালি, ফ্রাঞ্চ, সৌদি আরব, আরব আমিরাত, সাউথ আফ্রিকা, ইসরাঈল এবং আরও অনেক।

No comments:
Write comments