Advertisement

Saturday, July 7, 2018

বেড়াতে গিয়েছিলাম গ্রামের বাড়ি

বেড়াতে গিয়েছিলাম গ্রামের বাড়ি। 
ভূঁইয়া বাড়ি আমাদের। আমার বয়সী ও ছোট বড়ো চাচাতো ভাই বোন আছে ৭ জন। পাড়ায় আরো কয়েকজন ছেলে মেয়ে আছে। বাড়ি গেলেই ওরা আমার সঙ্গী হয়ে যায়। আনন্দই আনন্দ।




আমার ছোট চাচার মেয়ে তানজিয়া। ক্লাস এইটে পড়ে। খুব স্মার্ট। খাঁটি গ্রামের ভাষায় কথা বলে। সে আঠার মতো লেগে থাকবে আমার সাথে। তার কথা শুনলে হাসি পায়, মজাও লাগে। তার কাছ থেকে অনেক কিছু শিখি আমি।



বিকেল বেলা। তানজিয়া দৌড়ে এসে বলল, ‘শিশির ভাইয়া লাইগ্যা গেছে গা।’
‘কী লাইগ্যা গেছে রে?’
‘কাইজ্জা। হুনবানি। হুনলে লও যাই। হ্যারা ক্যামনে যে কাইজ্জা করে দেখলে বুঝবা। হোমানে বকাবকি করে। বকা হুনলে আক্কইরা থাকবা।’
আমি বললাম, ‘হ চল যাই, কাইজা হুইনা আক্কইরা থাহি গা।’

শরমে শরমে গেলাম। একটু দূরে দাঁড়িয়ে ঝগড়া দেখছি। পুবে একটা ঘর আর পশ্চিমে একটা ঘর। মাঝখানে সাদা একটা উঠোন। দুই ভাইয়ের দুই বউ। এরা মাথার আঁচল কোমরে পেঁচিয়ে ঝগড়া করছে। একজনের হাতে একটা পাতিল আরেক জনের হাতে একটা ঝাড়–। বকাবকির সময় হাতের ঝাড়–-পাতিলও জানি কেমন কথা বলে। লেগেছে কাইজা ঠিকমতো। আশেপাশে কয়েকজন দাঁড়িয়ে ঝগড়া দেখছে।

এক মহিলা ঝগড়া ফেলে আমার সামনে এসে কেঁদে ফেলল। সে বলছে, ‘ভূঁইয়ার নাতী আইছেন বালা অইছে। বিচার কইরা দিয়া যাইন। হোনছেননি কামাইল্যার মায় যে আমারে ইত্তা কি কয়? আমার লগে আয়েন আর খালি হোনেন, কি বকাগুলান বকলো আমারে। কামাইল্যার মায় যেই বকাগুলান বকলো এর একটা বকা আমার মুখ থাইকা জীবনেও বারইব না।’ আঁচলে চোখ মুছলো মহিলাটি।

তানজিয়া ধমক মেরে বলল, ‘আমরা বিচার করতে আইছি কোনো? ঝগড়া হুনতে আইছি। যান, হোমানে ঝগড়া করেন গিয়া। আফনে বকা মারতে পারেন না কামালের মারে?’
মহিলাটি জিহ্বায় কামড় দিয়ে বলে, ‘এই যে লোকগুলি খাঁড়ইয়া কাইজ্জা হুনতাছে, কেউনি কইতে পারবে আমি একটা খারাপ কতা কইছি?’

এক মহিলা তার কথা শুনে বিছার মতো লাফিয়ে উঠল। সে চোখ-মুখ চোখা করে বলল, ‘না, এতক্ষন না আফনে খালি বকবক করছেন। আমরা এহানে খাড়াইয়া না খালি আফনের বকবক হুনতে আছি। এহন সাধু সাজছে, আস্তা মিথ্যুক।’

মহিলাটি আমার হাতে ধরে টেনে টেনে বলছে, ‘আমার ঘরে আয়েন।’ না করতে করতে তার ছোট বারান্দায় গিয়ে থামলাম। মহিলা ঘরের ভেতরে গেল। একটা জলচকি আঁচলে মুছে ফু দিতে দিতে বলল, ‘চিহার নাই গা, কষ্ট কইরা জলচহিতেই বহেন। চাইরটা মুড়ি অইলেও মুখে দিতে অইব।’
দুই মহিলা যার যার মতো করে কাজ করছে আবার আরেঠারে কথাও বলছে। বকাবকি আর হচ্ছে না দেখে তানজিয়া আফছুছ করে বলল, ‘আয় হায়, শিশির ভাইয়া তোমারে কাইজ্জা হোনাইতে নিয়া আইছিলাম, এহন দেহি কাইজ্জা অক্করে পোঁতাইয়া গেছে গা।’

মহিলা একটা বাটিতে মুড়ি আর খেজুরের গুড় এনে দিতে দিতে বলল, ‘নিজের হাতে ভাজা মুড়ি। খাইয়া খালি দেহেন, কী যে মজা। খাইন।’
আমরা একটা দুটো করে মুখে দিচ্ছি। মহিলা মাথায় কাপড় টেনে ঘোমটা দিয়ে আমার সামনে এসে ভালো মানুষটি হয়ে বসল। তারপর ওই মহিলার বিরুদ্ধে রাজ্যের বদনাম করতে লাগল। কিছু কথা বলে জোরে জোরে, কিছু বলে ফিসফিস করে।

তানজিয়া বলে, ‘চলো যাইগা, কাইজ্জা মনে অয় আর অইত না, অনাফুত আইছি।’ বিদায় নিয়ে উঠোন দিয়ে চলে আসছি অমনি অপর ঝগড়াটে মহিলা দু’হাত বাড়িয়ে সামনে এসে দাঁড়াল। বলল, ‘কই যাইন? আমরা কি মানুষ না? হের ঘরে বেড়াইছেন আর আমার ঘরে যাইবেন না- এইডা ত অইবে না। আমি ওই আদেল্লার মতো হুগনা মুড়ি খাওয়ামু না, ছাগলের হাঞ্জো (টাটকা) দুধ খাওয়ামু।’ বলেই মহিলা আমাদের বসিয়ে রেখে একটা ছোট ঘরে গেল। একটা ছাগল টেনে এনে খুঁটিতে বাঁধলো। ছাগলের তলে একটা বাটি ধরে দুধ দোহাতে লাগল। একটু পরে একটা ছাগলছানা লেজ নেড়ে ম্যা ম্যা করে ছুটে এসে দুধ খেতে লাগল। একটু খাওয়ার পরেই মহিলা ছানাটির মুখে থাপ্পড় মেরে সরিয়ে দিল। একটি উদোম শিশু ছানাটিকে কোলে নিয়ে আদর করছে। মহিলা আবার দুধ দোহাতে লাগল। আমি অবাক হয়ে দেখছি আর ভাবছি, ‘এই দুধ নি আবার আমাকে খাওয়ায়!’

তানজিয়া আমার অবস্থা দেখে কানে কানে বলল, ‘শিশির ভাইয়া, দেইখ্খনে, এহন এই ছাগলের দুধ তোমারে খাওয়াইবে। যেই বয় (গন্ধ) ছাগলের দুধে!’

আমার পেট মোচড় দিয়ে উঠলো। ‘আমি এই দুধ খাব না।’
তানজিয়া বলল, ‘খাইবানা? আইয়ো ত পলাইয়া যাইগা।’
আমি বললাম, ‘ধ্যাত, পলায় আবার ক্যামনে, ফাজিল।’
সে বলে, ‘তাইলে এই ছাগলের দুধ খাইতে অইব কইলাম।’
মহিলা চুলায় দুধ বসাল।

‘আমরা গরিব অইতে পারি কিন্তুক ভূঁইয়ার নাতীরে যেইডা মোল্লয় হেইডা দিয়া সমাদর করতাতাম না।  গুড়মুড়ি কোনো সমাদরের জিনিস অইল? পেটকামড়ানির যোগাড়।’ এসব বলতে বলতে মহিলা দুটি গ্লাসে ছাগলের গরম দুধ এনে সামনে ধরল। তানজিয়া নিল কিন্তু আমি হাত-পা ছুড়ে সমানে না করছি। আর বলছি, ‘আমি গরুর দুধ খাই, ছাগলের দুধ খাই না।’

মহিলা বলল, ‘ছাগলের দুধ পাইবেন কই? খাইয়া খালি দেহেন, কী জিনিস, গরুর দুধের বাবা।’
আমি হাতে গ্লাস নিয়ে তানজিয়ার দিকে তাকিয়ে রইলাম। তানজিয়া কানে কানে বলল, ‘নাকে চিপ দিয়া ধইরে বায়ে বায়ে খাইয়ালাও। এই মহিলা যেই ঝগরাইট্টা, না খাইলে দাদীর কাছে এক্ষণ গিয়ে বিচার দিবে। পরে?’
হঠাৎ আমার মাথায় একটা বুদ্ধি এলো। মুখে হাসি এনে বললাম, ‘অনেক ধন্যবাদ আপনাকে। অনেক খুশি হয়েছি টাটকা দুধ পেয়ে। মাত্র মুড়িগুড় খেলাম তো তাই এ দুধ এখন খাবো না। নিয়ে যাই, বাড়ি গিয়ে খাবো নে।’

মহিলা না করল না। সে খুশিতে পাতিলের বাকি দুধটুকু এনে দিল। আমাদের এগিয়ে দিতে দিতে আমার হাতে ধরে বলল, ‘ভূঁইয়ান্নিকে কইয়েন, কামালের মায় ছাগলের হাঞ্জো দুধ দিয়া দিছে। খাইয়া দেইক্কেন-বাঘের শক্তি!’

কিভাবে ভালবাসতে হয় ? How to love?

“আমি তোমার জন্য যতই করি তাও তুমি কখনোই খুশি হওনা । কি চাও টা কি তুমি আমার কাছে ? তোমার কাছে তো আমার জন্য টাইমই নেই , সবসময় কি এতো ব্যস্ত থাকো তুমি ?”

বেশির ভাগ রিলেশনেই কিন্তু ভালবাসার অভাবে নয় বরং দূজন দুজনার ভালবাসা অনুভব না করার কারণে শেষ হয়ে যায় ।  দুজন মানুষের সম্পর্ক কখনো এক থাকেনা । দিন দিন খারাপ হতে থাকে আর নাহলে ভাল হতে থাকে ।

যদি কোনো মানুষের কাছে এই পৃথিবীর সবকিছু থাকে কিন্তু শুধু তার প্রিয়জনদের ভালবাসা না থাকে তাহলে সেই মানুষটাই পৃ্থিবীর সব থেকে দুঃখীদের একজন । এমন অনেক স্বামী স্ত্রী আছে যারা বিয়ের পর ২০ বছর অব্দি শুধুমাত্র রুমমেটের মত একে অপরের সাথে জীবন কাটিয়ে দেয় । তারা কখনো একে অপরের প্রতি ভালবাসা অনুভব করতে পারেনা । রিলেশনশীপ এক্সপার্ট ডক্টর চ্যাপম্যান বলেন, যেমন আমাদের সবার একটি মুখ্য মাতৃভাষা আছে , যে ভাষাটা আমরা ভাল বুঝতে পারি আর বলতে পারি , ঠিক তেমনি আমাদের প্রত্যেকের আলাদা আলাদা প্রাইমারী লাভ ল্যাঙ্গুয়েজও আছে । যে ভাষাতে আমরা ভালবাসাটা সবথেকে ভাল অনুভব করতে পারি । আমাদের সবার ভেতরে একটা ইমোশনাল লাভ ট্যাংক থাকে । আমরা আমাদের প্রাইমারী লাভ ল্যাঙ্গুয়েজে ভালবাসাটা পেলে ওই ট্যাংকটা সবথেকে বেশি ভরে উঠে । আর যখন আমাদের ভালবাসা পাওয়াটা বন্ধ হতে থাকে তখন ধীরে ধীরে এই লাভ ট্যাংক টা খালি হতে থাকে । আর এখান থেকে সম্পর্কতে নানারকম সমস্যা সামনে আসতে থাকে । তাহলে কি করে প্রিয়জনদের এই লাভ ট্যাংক টা কে ভর্তি রাখা সম্ভব সেটা আজ আমি আপনাদের সাথে "Gary Chapman" এর বই "The  5 love language"  থেকে শেয়ার করতে চলেছি ।

রিলেশনশীপের এক বা দুই বছর অব্দি আমরা একটা ঘোরের মধ্যে থাকি । আমার জন্য সে হয়তো একদম পারফেক্ট ! আর এই ঘোরের মধ্যে আমরা তার জন্য কিছু এমন কাজও করি যেটা হয়তো করাটা আমাদের আসলেই পছন্দ না । ডক্টর চ্যাপম্যান এই অবস্থাটা “In love state”  বলেছেন । কিন্তু যখন রিলেশনশীপ পুরোনো হতে থাকে তখন আমরা আমাদের পারফেক্ট পার্টনারের ঘোর থেকে বাইরে বেড়িয়ে আসতে থাকি । তখন আমাদের নিজের প্রিয়জনের ভালর থেকে দোষটাই বেশি নজরে আসতে থাকে । আর একারনেই দিন দিন সে আমাদের কাছে বিরক্তিকর হয়ে উঠতে থাকে । যে কারণে রিলেশনশীপের শুরুতে আমরা যে যে জিনিস তার জন্য করতাম তার মধ্য থেকে করা অনেক জিনিসই আস্তে আস্তে করা কমিয়ে দিতে থাকি । যে কারনে লাভ ট্যাংকও খালি হতে থাকে , আর শেষ অব্দি দুজনের মধ্যে বন্ধনটাও দূর্বল হতে থাকে । একটা দীর্ঘমেয়াদী মজবুত সম্পর্ক গড়ে তোলার জন্য আমাদের এটা বুঝতে হবে যে, এই “In love state” অবস্থায় এটা একটা সাময়িক অবস্থা মাত্র । যখন এই অবস্থাটার সময়সীমা শেষ হয়ে যায় তখন আমাদের একটা সিদ্ধান্ত নিতে হয় ‘Real love state ‘  এ ঢুকার জন্য, যার জন্য ৩ টা জিনিস খুবই মনে রাখা দরকার ।  


১। Unconditional love
আমাদের সবসময় একটা সিদ্ধান্ত নিতে হয় যে, যেমনই সিচুয়েশন আসুক,  তাতে কখনোই আমি ভালবাসার অভাব হতে দিবনা ।

২। Effort & Discipline
“In love state” সিচুয়েশনে আমাদের “effort”  বা “Discipline”  এর দরকার হয়না । তখন আমরা একটা ঘোরের মধ্যে থাকি । কিন্তু রিয়েল লাভ সিচুয়েশনে এই দুটো জিনিস খুব ইম্পরট্যান্ট । আমাদের নিজের পার্টনার কে সঠিক উপায়ে বুঝে তাকে ভালবাসা অনুভব করাতে হয় । যার জন্য একটু "Effort" আর  "Descipline" এর দরকার পরে ।

৩। Focus on Growth  &  Development
কি করে রিলেশনশীপ কে আরো বেটার বানানো যায় সেদিকে আমাদের মনোযোগ দিতে হয় । কেননা “Real love state’  এ দুজনের মধ্যে বন্ধন নিজে নিজে স্ট্রং হয়ে যায় না, সেটাকে স্ট্রং বানাতে হয় । এর জন্য সবথেকে যেটা বেশি দরকার সেটা হলো নিজের প্রিয়জনের প্রাইমারী লাভ ল্যাঙ্গুয়েজ কি সেটা জেনে তাকে সেই ল্যাঙ্গুয়েজে বেশিরভাগ সময়ে ভালবাসা ।

নিজের ৩০ বছরের কর্মজীবনের অভিজ্ঞতার উপর ভিত্তি করে ডক্টর চ্যাপম্যান এই প্রাইমারী লাভ ল্যাঙ্গুয়েজকে ৫ টা বিভাগে ভাগ করেছেন । এর মধ্যে সবার ফার্স্ট ল্যাঙ্গুয়েজ হলো “Words of Affirmation”  । “আরে বাহ! আজতো তোমাকে একদম ফাটাফাটি লাগছে । কি ব্যাপার !” “তুমি কি করে আমায় এতো ভালবাসো ? আমাকেও একটু শেখাও না ।” যে মানুষটির লাভ ল্যাঙ্গুয়েজ “Words of Afirmation” সে সবথেকে বেশি ভালবাসা অনুভব করে যখন প্রিয়জন তার কাজের জন্য বা তাকে কেমন লাগছে তার জন্য কিছু ভাল কমপ্লিমেন্ট দেয় । যেমন “I love You” এর মত word  শোনা , কেন ভালবাসে সেটা শোনা । এই ধরনের কথাগুলো তাদের মনে সবথেকে বেশি ভালবাসার অনুভুতি জাগায় ।

এবার আপনি হয়তো বলতে পারেন, “ভাই আমিতো ওর মধ্যে কিছুই ভাল দেখিনা ।” এটা কখনো সম্ভব না যে কোনো মানুষের মধ্যে একটাও কোনো ভাল জিনিস নেই । আরে সে অন্তত রোজ গোসল তো করে । যদি আর অন্য কিছু না থাকে তাহলে এর জন্যই আপনি তাকে ভালবাসতে পারেন । এমন অনেক মানুষ আছে যারা রোজ গোসল করেনা । আপনি একটু মন দিয়ে দেখলে এরকম অনেক ভাল কিছু দেখতে পেয়ে যাবেন ।

“হুম, আচ্ছা মেনে নিলাম যে ভাল কিছু আছে, কিন্তু এই ন্যাকা ন্যাকা কথা বলা আমার একদম পছন্দ না।”  তাহলে তো ভাই আপনার জন্য খুবই দূর্ভাগ্যের ব্যাপার । কেননা আপনার পার্টনারের প্রাইমারী লাভ ল্যাঙ্গুয়েজ যদি এটা হয়, তাহলে শুধুমাত্র এই ল্যাঙ্গুয়েজ দিয়েই তার লাভ ট্যাংক ভরা যেতে পারে । যদি আপনার কাছে আপনাদের রিলেশনশীপটা সত্যিই গুরুত্বপূ্র্ণ হয় , তাহলে ভাই শিখে নিন প্লিজ, একটা ছোট স্কিল মাত্র । শিখে নিলে ক্ষতি কি !

দ্বিতীয় ল্যাঙ্গুয়েজ হলো “Quality Time” । “আমার জন্যতো তোমার কাছে টাইমই নেই ।” যদি আপনার পার্টনার সবসময় এই অভিযোগটি করে তাহলে হতে পারে তার প্রাইমারী লাভ ল্যাঙ্গুয়েজ “Quality Time” । যার মানে সে আপনার কাছে দিনের মাঝে সামান্য কিছু সময়ের জন্য আপনার অপেক্ষা করে । যেখানে আপনি পুরোপুরি ভাবে শুধু তার সাথে থাকবেন, শুধু তার ব্যাপারেই ভাববেন, তার সাথে কথা বলবেন বা তার সাথে একসাথে কোনো কাজ করবেন । এরকম না যে টিভি দেখতে দেখতে দু চারটে কথা বলে নিলাম, কাল বাজার থেকে কি কিনে আনতে হবে ?  না। কোনো মোবাইল না, কোনো টিভি না, জিরো ডিস্ট্রাকশন । শুধু আপনি আর সে দুজনে দুজনের চোখে চোখ রেখে কিছুক্ষণের জন্য শুধু মনের কথাগুলো বলা ।

তৃ্তীয় ল্যাঙ্গুয়েজ হলো “Receiving Gifts”।
“আমার কাছে নিজের জন্যই কিছু কেনার টাকা নেই, আমি কিভাবে তার জন্য গিফট কিনব ?”  কে বলেছে যে আপনাকে গিফট কিনতে হয় ? মনে পরে ছোটবেলায় আপনি যখন বাগান থেকে ফুল তুলে এনে আপনার মা কে দিতেন, তখন আপনার মা আপনার হাত থেকে সে ফুলটা পেয়ে কত খুশি হতেন ! যদি আপনার পার্টনারের প্রাইমারী লাভ ল্যাঙ্গুয়েজ এটা হয় তাহলে আপনি এক্সপেরিমেন্ট করার জন্য এই টেকনিকটা এপ্লাই  করে দেখুন । প্রতি সপ্তাহে যে কোনো বাগান থেকে হোক, যেখান থেকে হোক, কিছু ভিন্ন ধরনের ফুল সংগ্রহ করে তাকে গিফট করুন । আর বলুন, “আমার তরফ থেকে তোমার জন্য একটা ছোট্ট উপহার এটা ।” দেখবেন সে এইটুকুতেই কতটা খুশি হয় ।

চতুর্থ ল্যাঙ্গুয়েজ হলো “Acts of Service” ।
“আজ তোমার জন্য আমি চা বানাবো, তুমি শুধু চিনিটা বেশি হলে বলো” । যার লাভ ল্যাঙ্গুয়েজ এটা হয় সে তখনি সবথেকে বেশি খুশি হয় যখন তার প্রিয়জন তার কোনো কাজে সাহায্য করে । “দাও তো দেখি আজ এ কাজটা আমি তোমার জন্য করি ” । মানে যখন কেউ তার রেসপন্সিবিলিটিজ গুলো কিছু বলার আগেই নিজেই নিজের সাথে শেয়ার করে নেয় । যেমন, ঘরের কাজে সাহায্য করা, বাচ্চাদের স্কুলে নিয়ে যাওয়া । “আচ্ছা, তারমানে এখন আমায় বাসনও মাজতে হবে” – অসম্ভব ! যদি এই কথাগুলো শোনার পর যদি এটা আপনার রিএকশন হয়, তাহলে আমি আপনাকে একটা ছোট্ট গল্প শোনাতে চাই ।

“একদিন রাতে খাওয়ার সময় ডক্টর চ্যাপম্যানের স্ত্রী তিনিকে বলেন, দেখো জানালাগুলোর উপর কি ময়লা জমে গেছে । ডক্টর চ্যাপম্যান সেদিকে তাকিয়ে গম্ভীর গলায় শুধু বলেন “হুম” । আর তারপর আবার উনি মাথা নামিয়ে নিজের খাবার খেতে শুরু করে দেন । পরেরদিন সকালে যখন উনার স্ত্রী ঘুম থেকে উঠে সেখান যান তখন উনি দেখেন ডক্টর চ্যাপম্যান সেখানে জানালাগুলো পরিস্কার করার চেষ্টা করছেন । এসব দেখে উনার স্ত্রী উনাকে জিজ্ঞাসা করলেন, এটা তুমি কি করছো? ডক্টর চ্যাপম্যান উত্তর দেন, কিছুনা, এই একটু ভালবাসা প্রদানের চেষ্টা করছিলাম আর কি ! এই কথাটা শুনে উনার স্ত্রী খুশিতে কেদে ফেললেন । আর সে ডক্টর চ্যাপম্যান কে বলেন, তুমি জানো? তুমি এই পৃ্থিবীর সবথেকে ভাল স্বামী!
এবার বলুন, আপনি কি বাসন মাজবেন ?

পঞ্চম ল্যাঙ্গুয়েজ হলো “Physical Touch”   ।
না না ভাই, খারাপ দিকের কথা বলছি না । মনে আছে ছোটবেলায় যখন সারাদিন পর আপনার বাবা অফিস থেকে বাড়ি ফিরত, আর আপনি ছুটে গিয়ে আপনি হাত দিয়ে উনাকে জরিয়ে ধরার চেষ্টা করতেন ! এখানে সেই ফিজিক্যাল টাচের কথা বলা হচ্ছে । ফিজিক্যাল টাচ কে খুবই পাওয়ারফুল লাভ ল্যাঙ্গুয়েজ বলে মনে করা হয় । এটা এতোটাই পাওয়ারফুল, একটা ছোট্ট শিশু যে কিনা কোনো ল্যাঙ্গুয়েজই বুঝেনা, সেও এই ল্যাঙ্গুয়েজটা কে অনুভব করতে পারে । চুমু দেয়া, সুরসুরি দেয়া, এইসব জিনিস থেকে সে ভালবাসার অনুভুতি পায় । বড়দের জন্য ভালবাসা অনুভব করানোর জন্য ঠিক এরকমই কিছু জাদুর মত কাজ করে । 


ঠিক যেমন নিজের প্রাইমারী লাভ ল্যাঙ্গুয়েজে ভালবাসা পেলে নিজের লাভ ট্যাংক সবথেকে বেশি ভরে উঠে, তেমনি নিজের প্রাইমারী লাভ ল্যাঙ্গুয়েজের নেগেটিভ কিছু পেলে সে সেই মানুষটির লাভ ট্যাংক তত তাড়াতাড়ি খালি হতে থাকে । যেমন যার প্রাইমারী লাভ ল্যাঙ্গুয়েজ “words of affirmation”,  তাকে কথায় কথায় ইনসাল্ট করা । যার প্রাইমারী ল্যাঙ্গুয়েজ ‘Physical Touch”,  তার উপর কোনো কারণে হাত তোলা । এইসব জিনিসগুলো তাদের ক্ষেত্রে রিলেশনশীপের জন্য মারাত্মক ক্ষতির কারণ হতে পারে ।

এবার প্রশ্ন হলো, “কোনো মানুষের প্রাইমারী লাভ ল্যাঙ্গুয়েজটি কি সেটা কিভাবে জানা সম্ভব”? এর জন্য আপনাকে একটু মন দিয়ে অবজার্ভ করতে হবে । যখন সেই মানুষটা খুশি হয়, ভালবাসা প্রদর্শনের চেষ্টা করে, তখন সে কোন ল্যাঙ্গুয়েজটা সবথেকে বেশি ব্যবহার করে ? কেননা উনার যে ল্যাঙ্গুয়েজটা সবথেকে বেশি পছন্দ, যে ল্যাঙ্গুয়েজে উনি সবথেকে বেশি কমফোরটেবল, উনি বেশির ক্ষেত্রেই সেই ল্যাঙ্গুয়েজেই অপরকে ভালবাসা দেয়ার চেষ্টা করেন । যদি আমি কাউকে ভালবাসি তো সর্বাধিক আমার যে জিনিসটা পছন্দ, আমি তাকে সেই জিনিসটাই বেশি দেয়ার চেষ্টা করব । তো এভাবেই আপনি জানতে পারেন ।

ডক্টর চ্যাপম্যানের মতে লাখের মধ্যে একটা কেইস এরকম হয় যেখানে দুজন লাইফ পার্টনারের লাভ ল্যাঙ্গুয়েজ একই রকমের হয় । কিন্তু যদি একটা সুস্থ স্বাভাবিক, দীর্ঘমেয়াদী, হ্যাপী রিলেশনশীপ পেতে হয়ে হয় তাহলে একে অপরের প্রাইমারী লাভ ল্যাঙ্গুয়েজে ভালবাসা প্রদান করাটা খুবই দরকার । হ্যা তবে শুধু এরকম না যে শুধু প্রাইমারী লাভ ল্যাঙ্গুয়েজেই ভালবাসতে হবে ! বাকি চারটি ল্যাঙ্গুয়েজও মাঝে মাঝে ইউজ করা দরকার । কিন্তু সবথেকে বেশি প্রাইমারী লাভ ল্যাঙ্গুয়েজটা ব্যবহার করা জরুরী । কেননা সেটা ছাড়া লাভ ট্যাংক কখনো পুরোপুরি ভর্তি হবেনা । ঠিক যেমন ভালবাসার অনুভুতিটা এই পৃ্থিবীর সবথেকে ভাল অনুভুতিগুলোর মধ্যে একটা , তেমনি ভালবাসা না পাওয়ার অনুভুতি এই পৃ্থিবীর সবথেকে কষ্টদায়ক অনুভুতিগুলোর মধ্যে একটা । এজন্য আমাদের সবার “The 5 Love Language” এর ব্যাপারে জানা খুবই জরুরি । আর এই কারনে আপনার কাছে আমার একটা ছোট্ট রিকুয়েস্ট, এই লেখাটি আপনি আপনার প্রিয়জনদের সাথে শেয়ার করে তাদেরও সুযোগ করে দিন এই ‘5 love language’ সম্পর্কে জানার জন্য । কারণ যাতে শুধু আপনি নন, বরং তারাও আপনার প্রাইমারী লাভ ল্যাঙ্গুয়েজটাকে চিনে সেই ল্যাঙ্গুয়েজে আপনাকে ভালবাসা প্রদান করে । আর আমরা সবাই একটা শান্তিপূর্ণ রিলেশন গড়তে পারি ।

যদি এই লেখাটুকু আপনার জীবনে একটু হলেও উপকারে আসে তাহলে অবশ্যই আপনার ভাললাগার একটা চিহ্ন রেখে যাবেন এই পোষ্টে । আবারো দেখা হবে । ততক্ষন অব্দি সবাই ভাল থাকবেন ।                                                                                                                                                 - শিশির ইসলাম

প্রেমরোগের এক ডজন লক্ষণ

সবাই বলে প্রেম নাকি একটা রোগ। আর রোগ হলে অবশ্যই এর কিছু লক্ষণ থাকার কথা। তো কোন কোন লক্ষণ দেখলে বুঝতে পারবেন আপনি আসলে প্রেমের ভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছেন, চলুন দেখে আসি। লিখেছেন— রবিউল ইসলাম সুমন


♦ জীবনে কখনো দেখার চেষ্টা করেননি আপনার চেহারাটা আসলে কেমন। অথচ এখন একটু পর পরই আয়নার কাছে গিয়ে নিজেকে দেখেছেন। 

♦ আগে মোবাইলে ১০-২০ টাকা রিচার্জ করলেই আপনার সারা মাস চলে যেত। অথচ এখন ডেইলি তিন-চারবার রিচার্জের দোকানে যেতে হয়। 
♦ মোবাইলে ঘণ্টার পর ঘণ্টা কাটিয়ে দিতেন ক্যান্ডি ক্র্যাশ বা ক্ল্যাশ অব ক্ল্যানস গেম খেলতে খেলতে। অথচ এখন আর কোনো গেমসই খেলতে ইচ্ছা করে না। 
♦ বড় বড় জোকস শুনলেও আপনার মুখ থেকে হাসি বের হয় না। অথচ এখন কোনো কারণ ছাড়াই আপনি একটু পর পর হেসে ওঠেন। 
♦ কাকের মতো কর্কশ কণ্ঠ বলে আপনি ভুলেও কখনো গান গাননি। অথচ এখন কে কী ভাবছে, না ভাবছে— সেসব কেয়ার না করেই নিজে নিজে গুনগুনিয়ে গেয়ে ওঠেন। 
♦ রাত ২টা না বাজলে আপনি কখনো রুমের লাইট নেভান না। অথচ এখন ১০টা না বাজতেই লাইট নিভিয়ে মোবাইলে গান শোনেন বা গুনগুনিয়ে কথা বলেন। 
♦ বন্ধুদের সঙ্গে আড্ডাবাজি না করলে আপনার চলতই না। অথচ এখন কেমন জানি একা একা থাকতে ইচ্ছা করে। 
♦ মোবাইল আর পিসিতে পুরনো সব ছবি, গান, ভিডিও মুছে দিয়ে বেছে বেছে কেবল রোমান্টিক মুভি, গান বা ছবি সেইভ করে রেখেছেন। 
♦ তুচ্ছ ঘটনায় অনেক হৈহুল্লোর করে বসেন কিংবা বিশাল কোনো ঘটনাকে তুচ্ছ মনে করে এড়িয়ে চলে যাচ্ছেন। 
♦ পার্কে কপোত-কপোতীদের তো বটেই, গাছের ডালে দুটি পাখি একত্রে বসে থাকতে দেখলেও আপনি কোথায় যেন হারিয়ে যান, আপনাকে কেউই খুঁজে পায় না। 
♦ একটা সময় এক কাপড়ে আপনি তিন দিন থেকেছেন। অথচ এখন কারণ ছাড়াই একটু পর পর পোশাক চেঞ্জ করতে আপনার ভালো লাগছে। 
♦ ঘণ্টায় ঘণ্টায় স্টেটাস না দিলে আপনার শান্তি লাগত না। অথচ এখন সারা দিনেও আপনাকে ফেসবুকে খুঁজে পাওয়া যায় না।


                                                                                    প্রথম প্রকাশ: ঘোড়ারডিম, দৈনিক কালেরকণ্ঠ
(২০ সেপ্টেম্বর ২০১৬)

Sunday, April 8, 2018

সিসিমপুরের টুকটুকি -১


বিয়ের অনুষ্ঠানে এক একা বসে আছে জেরিন । প্রচন্ড বিরক্ত হচ্ছে সে। বিরক্ত লাগছে তার অনেক বেশি। আগেই জানতো এখানে এসে একা থাকতে হবে, তাই আসতেই চায়নি সে। কিন্তু মায়ের পিড়াপীড়িতে আসতে বাধ্য হয়েছে। কোন কাজ না পেয়ে ফেসবুকে লগইন করলো। করেই দেখে অনলাইনে সাদমান, জেরিনের বয়ফ্রেন্ড !

– কি করো, জান ? ( জেরিনকে অনলাইনে দেখামাত্রই সাদমানের মেসেজ )
– কিছু না। মেজাজ খারাপ এখন।
– হইছে টা কি ?
– কথা বলবা না।
– ওকে।
– ওকে মানে কি ?
– তুমিই তো বললা কথা বলতে না।
– তাই বলে আমার সাথে কথা বলবা না ?
– আরেহ আশ্চর্য তুমিই তো বললা !
– ও বুঝছি তুমি তো এখন মেয়েদের সাথে চ্যাটিং-এ ব্যস্ত। করো করো যত ইচ্ছা চ্যাট করো।
– আজব তো। হু করতেছি আমি চ্যাট। তোমার কি তাতে ?
– কি ??????????
– জানো আমি এখন ১০ জন মেয়ের সাথে চ্যাট করতেছি !

প্রচন্ড রাগে ফেসবুক থেকে বের হয়ে যায় জেরিন !
ইচ্ছা করেই সাদমান কাজটা করে। ঞ্জেরিনকে রাগিয়ে দেয় সে। আর জেরিনও একটু আহ্লাদী মেয়ে, মন মত কিছু না হলেও হয়েছে, প্রচন্ড রেগে যায় সে। বরাবরের মতই এখন রাগে ফুঁসছে সে। ফর্সা, গোলগাল চেহারাটা রক্ত বর্ণ ধারণ করেছে। একটু পরেই আবার ফেসবুকে গেলো। গিয়ে নিজের আইডি থেকে লগআউট করে সাদমানের আইডিতে গেলো।

গিয়ে দেখে কিসের কি ! সে বাদে সর্বশেষ মেসেজিং করেছে তার বন্ধুদের সাথে। কোন মেয়ের সাথেই তার চ্যাটিং হয়নি। তারমানে মিথ্যা বলেছে সে ! আরেকদফা রেগে গেলো জেরিন ।
আবার নিজের আইডিতে গিয়ে সাদমান কে মেসেজ দিলো, " আমার সাথে মিথ্যা কথা বললা কেন ? "

– তারমানে তুমি আমার আইডিতে লগইন করেছিলে ? ছি ছি ! না বলে অন্যের আইডিতে যাও, লজ্জা নাই তোমার ?

– কি ????????????
– এত কি কি করো কেন ?
– তোমার সাথে কথা নাই।
– আরেহ আজব !

রিপ্লাই দেয় না জেরিন। রেগে মেগে ফেসবুক থেকে বের হয়ে গেছে সে। একটু পরে আবার লগইন করে দেখে একটা লাভ স্টোরি দিয়েছে সাদমান, নায়ক যথারীতি আর্মি অফিসার !

– আচ্ছা তুমি এত আর্মি আর্মি করো কেন গল্পে ?
– এনি প্রব্লেম ?
– মানে কি ?
– মানে হচ্ছে আমার গল্পের প্লটের সাথে আর্মি অফিসারেরা বেশি খাপ খায়, তাই ওভাবে দেই। আমি ওভাবে কল্পনা করে লিখতে পছন্দ করি।

– না তুমি এভাবে বলো নাই !
– মানে ?
– তুমি প্রথমে অন্যভাবে বলেছ।
– আরেহ আজব।
– কি আজব ?
– তুমি ! নারায়ণগঞ্জের মেয়ে তো, একটু বেশি সন্দেহপ্রবণ ! সবসময় একটু বেশি বুঝে !

– তোমার সাথে কথা নাই।
– উফফ !! কিছু হইলেই খালি কথা নাই, কথা নাই বলে গান শুরু করে দিবে মেয়েটা !
– তুমি মুড়ি খাও।
– তুমি বিয়েতে গেছো না ?
– হুম।
– তাইলে তুমি ভালো করে মোরগ-পোলাও খাও ! তাইলে যদি মাথায় একটু বুদ্ধি হয় !

মেসেজ দেখে আবার রেগে গেলো জেরিন। এবার আর কথাই নাই। সোজা আইডি ডি-অ্যাক্টিভ করে বের হয়ে গেলো।

পরদিন বিকালে পার্কে বসে আছে সাদমান। গতরাতে জেরিনকে প্রচন্ড রাগিয়ে দিয়েছে সে ! যে কারণে মেয়েটা প্রথম প্রথম তার ফোনও ধরনি।
মোবাইলের মেসেজে অনবরত সরি বলার বলার পরে একবার ফোন ধরেছিল। ফোনেও অনেকবার সরি বলেছে, জেরিন কোন কথা বলেনি। তাই তাকে বিকালে এখানে আসতে বলেছে। যতই কথা না বলুক সাদমান জানে জেরিন না এসে পারবে না।
যথা সময়েই জেরিন এসে হাজির। সাদমান কে দেখেই, " তোমার সাথে কোন কথা নাই। "
মুচকি হাসে সাদমান। রাগলে জেরিন কে দেখতে বেশি সুন্দর লাগে। তাই ইচ্ছা করেই সে তাকে রাগায়। আর সে ভালো করেই।জানে জেরিনের রাগ কি করে ভাঙ্গাতে হয় !
পকেট থেকে কিটক্যাটের একটা বড় প্যাকেট বের করে বললো, " ভেবেছিলাম তোমাকে দিবো কিন্তু এখন এটা দেওয়ার জন্য মনে হয় অন্য একজন মেয়ে খুঁজতে হবে !
" কি ? " চোখে পাকিয়ে বলে জেরিন। " এটা আমার জন্য আনোনি ?"

– এনেছিলাম তোমার জন্যই। কিন্তু তুমি তো নিতে চাও না …
– ফাজিল।

আর রাগ ধরে রাখতে পারলো না জেরিন। হেসে ফেললো সে। তার মধ্যে এখনো বাচ্চাদের মত চকলেটপ্রীতি কাজ করে। আর সেটা জানে সাদমান। জেরিনের রাগ
ভাঙ্গাতে সে তাই চকলেটের ব্যবহারই করে !

এভাবেই তাদের খুনসুটির সমাপ্তি ঘটে যেটা গত দুই বছর ধরে প্রতিনিয়ত
চলে আসছে !

পার্কে বসে সাদমানের কাঁধে মাথা রেখে চকলেট খাচ্ছে জেরিন!
আর দুজনে নীরবে উপভোগ করছে পড়ন্ত বিকেলের আশ্চর্য সুন্দর, মায়াবী পরিবেশটা !
দুজন প্রেমিক-প্রেমিকার এ দৃশ্যটা আশ্চর্য সুন্দর, সমস্ত সৌন্দর্যকে যেন হার মানিয়ে যায় ! অসাধারণ সুন্দর আর মায়াবী পড়ন্ত বিকেলও এ দৃশ্য দেখে যেন হিংসায় মরে যায় !

প্রেমিকা না থাকার সুবিধা



নিজের কোনো প্রেমিকা নেই বলে দুঃখ করেন অনেকেই। জীবনে একটা প্রেম হলো না বলে আফসোসের শেষ নেই।



বন্ধুরা প্রেমিকা নিয়ে রিকসায় ঘুরছে, ফুসকা খাচ্ছে; বার্গার-চিকেন, কোল্ডড্রিংস, আইসক্রিম খেতে খেতে স্বপ্নের জাল বুনছে, সিনেমায় যাচ্ছে, আর আপনি হিংসায় জ্বলছেন! আফসোস হচ্ছে, ইস আমার যদি একজন প্রেমিকা থাকতো! কিন্তু জানেন কি, প্রেমিকা না থাকার সুবিধা? সেটা জানলে অনেকেই হয়ত ভাববেন, যাক, একা আছি, এই বেশ ভালো আছি। আসুন জেনে নিই প্রেমিকা না থাকার কয়েকটি উপকারিতা।

নিজেই নিজের সিদ্ধান্ত নেওয়া : পেশার খাতিরে শহর বদলানো বা ঘুরতে যাওয়ার সময় আপনার যদি কোনো প্রেমিকা না থাকে তাহলে চট করে সিদ্ধান্ত নিতে পারবেন। ব্যাগ নিলেন, আর চলে গেলেন। কিন্তু বান্ধবী বা প্রেমিকা থাকলে আলোচনা করতে হবে। এমনকি আপনার সিদ্ধান্ত বদলাতেও হতে পারে।

লাখো সুন্দরীর ভিড়ে : একা থাকলে অন্য মেয়েদের দিকে তাকানোর সময় আপনার মনে কোনো অপরাধবোধ কাজ করবে না। যার সাথে ফ্লার্ট করবেন সে-ও খারাপ ভাববে না। আর সঙ্গে যদি প্রেমিকা থাকে, আপনার দুঃসাহসই হবে না অন্য মেয়ের দিকে তাকাতে।

একা থাকুন, স্লিম থাকুন : ব্রিটেনে এক জরিপে দেখা গেছে, যেসব মানুষ সম্পর্কে জড়ায়, তাদের ৬২ শতাংশের ওজন ৭ কেজি পর্যন্ত বেড়ে যায়। ডেটিংয়ের সঙ্গে ওজন বাড়ার সম্পর্ক রয়েছে বলে ওই জরিপের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে। একা থাকলে মানুষ প্রচুর পরিশ্রম করে আর তাতে ওজনও কম থাকে, মোটা হওয়ার ভয়ও থাকে না।

অফুরন্ত সময় : যাদের প্রেমিকা আছে, তাদের জিজ্ঞেস করে দেখতে পারেন, তাদের কতজন বই পড়ার, খেলা দেখার বা মুভি দেখার সময় পান। একটা উত্তরই পাবেন, ‘সময়ই পাই না’। আর একা থাকলে নিজের ইচ্ছে মতো মুভি দেখা, গান শোনা, খেলা দেখার কত সময়!

আরামের ঘুম : ‘ঘুম আসে না’- হঠাৎ বৃষ্টি’র সেই গানটার মতোই প্রেমিকদের অবস্থা। এটা সত্যিই অনেক মানুষ জানিয়েছেন যে, প্রেমে পড়লে রাতের বেশিরভাগ সময় ফোনে প্রেমিকার সঙ্গে কথা হয়, তাই ঘুম খুব কম হয়। আর যদি একা থাকেন কোনো চিন্তা-ভাবনা, ঝগড়া-ঝাটি ছাড়া নিশ্চিন্ত ঘুম। আহ, এর চেয়ে শান্তি আর কী আছে!

বিচ্ছেদের কষ্ট নেই : যুক্তরাষ্ট্রে প্রায় ৫০ ভাগ বিয়ে ভেঙে যায়। আর আর্থিক অসঙ্গতির কারণে অনেক পুরুষ চেয়েও তালাক পান না। এসব ঝামেলা এবং বিচ্ছেদের কষ্ট তাদেরই, যাদের প্রেমিকা, বান্ধবী বা স্ত্রী আছে। আপনার কী চিন্তা? আপনি তো একা, উপভোগ করুন জীবনটাকে।

বন্ধু যখন শত্রু : যারা একা থাকেন, তারা বন্ধু-বান্ধবদের সঙ্গে দারুণ সময় কাটাতে পারেন। সময়ের কোনো বাঁধা-ধরা থাকে না। আর যাদের প্রেমিকা আছে তাদের জিজ্ঞেস করুন, বন্ধুদের কেবল প্রতিশ্রুতিই দেওয়া হয়, কিন্তু বেশির ভাগ ক্ষেত্রেই সেগুলো পূরণ করতে পারেন না। অথচ একলা থাকলে যখন খুশি বন্ধুদের সঙ্গে দেখা করুন, আড্ডা দিন, কোথাও ঘুরতে চলে যান। যাকে বলে, 'দুনিয়াটা মস্ত বড়, খাও দাও ফুর্তি করো'।

যেখানে কোনো চাহিদা বা আকাঙ্ক্ষা নেই : প্রতিটি সম্পর্কেই কিছু আকাঙ্ক্ষা এবং চাহিদা থাকে। আর প্রেমিকাদের অনেক চাহিদা পূরণ করতে গিয়ে প্রেমিকদের নাভিশ্বাস উঠে যায়। 

তাই প্রেমিকা না থাকলে আপনি বাড়াতে থাকুন আপনার ব্যাংক ব্যালেন্স বা খরচ করুন আপনার ইচ্ছে মতো। এত স্বাধীনতা আর কোথায়! আর আলো-আঁধারিতে প্রেমিকার সঙ্গে বসে যে চিকেন, বার্গার, শর্মা খাওয়ার স্বপ্ন দেখছিলেন, তার ব্যয়ভার বহনের কথা একবার ভেবেছেন কি?